ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ

মার্কিন জাহাজে হুতিদের ড্রোন হামলা, প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলা

এবারের হামলার লক্ষ্য ছিল হুতিদের কাছে থাকা ১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র
হুতিদের বিরুদ্ধে হামলায় টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। ফাইল ছবি: রয়টার্স
হুতিদের বিরুদ্ধে হামলায় টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। ফাইল ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র এক সপ্তাহের মাঝে চতুর্থবারের মতো ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

এবারের হামলার লক্ষ্য ছিল হুতিদের কাছে থাকা ১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এগুলো লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা চালানোর জন্য মজুত করেছিল হুতিরা।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উদ্যোগ নিয়ন্ত্রণ করে সেন্টকম। এই সংস্থাটি জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে হুতি স্থাপনায় আঘাত করা হয়।

এমন সময় এই হামলা এলো যখন মার্কিন প্রশাসন ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের নাম নতুন করে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। গতকাল এই সিদ্ধান্ত আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান জানান, হুতিরা বারবার এ অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ফলে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাইডেন প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর হুতি বাহিনীকে সন্ত্রাসী তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

ইয়েমেনে হুতিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে একটি রণতরী। ছবি: রয়টার্স
ইয়েমেনে হুতিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে একটি রণতরী। ছবি: রয়টার্স

হুতিরা নভেম্বর থেকে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো শুরু করে। হুতিদের দাবি, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় তারা এই উদ্যোগ নিয়েছে। এরপর সংগঠনটি লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী ট্যাংকার জাহাজের বিরুদ্ধে কয়েক ডজন হামলা চালায়। যার ফলে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত নৌপরিবহন রুটগুলোর একটিতে জাহাজের চলাচল বড় আকারে বিঘ্নিত হয়।

প্রতিক্রিয়ায়, ১১ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য বেশ কিছু হুতি স্থাপনার বিরুদ্ধে বিমানহামলা পরিচালনা করে। এতে সহায়তা করে অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, নেদারল্যান্ডস ও কানাডা। এর আগে হুতিদের হামলা থামানোর জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও তারা সেটা মানেনি।

এরপরও হুতি বাহিনী বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রাখে। যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ পর্যায়ের হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই হুতিরা যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি জাহাজে হামলা চালায়।

এডেন উপসাগরে এম ভি গেনকো পিকার্ডি নামের মার্কিন জাহাজে আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালায় হুতিরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এই হামলায় কেউ হতাহত হননি। হামলার জেরে জাহাজের কিছু ক্ষতি হয়েছে। জাহাজটি মার্কিন মালিকানাধীন ও মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী।

সোমবার হুতিরা একটি মার্কিন জাহাজে ব্যালিসটিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিবিসিকে জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলায় দেশটি অংশ নেয়নি।

সেন্টকমের কমান্ডার জেনারেল মাইকেল কুরিল্লা জানান, যুক্তরাষ্ট্র হুতিদের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রাখবে। তিনি আরও জানান, 'যতক্ষণ পর্যন্ত তারা লোহিত সাগর ও এর কাছাকাছি অঞ্চলের আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ও বাণিজ্যিক জাহাজের গমনপথে হামলা চালাতে থাকবে', ততক্ষণ পর্যন্ত এই অভিযান চালু থাকবে।

Comments