সবুজ পাহাড় আর উপত্যকার দেশ ভুটানে দেখার মতো ৬ জায়গা

পারোর টাইগার নেস্ট। ছবি: সংগৃহীত

পর্যটন খাতের সুদিন পুনরুদ্ধারে নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে ভুটান সরকার। তারই অংশ হিসেবে পর্যটকদের প্রতিদিনের ভ্রমণ ফি ২০০ ডলার থেকে অর্ধেক কমিয়ে ১০০ ডলার করেছে দেশটি, যা চলতি মাস থেকে কার্যকর হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত প্রাকৃতিক দৃষ্টিনন্দন দেশটিতে পর্যটক বাড়াতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সংস্কৃতি এবং বৈচিত্র্যময় জীবনযাপনের জন্য অনেক পর্যটকই হিমালয়ের কোলঘোঁষা দেশটি ভ্রমণে যান। দেশটির মানুষের আতিথেয়তাও অতুলনীয়।

চলুন দেখে নেওয়া যাক ভুটানের অন্যতম পর্যটন আকর্ষনীয় স্থানগুলো কী কী-

পারো

পারো শহরটি গৌরবময় ইতিহাস এবং অসংখ্য পবিত্র স্থানে সমৃদ্ধ। পারো উপত্যকাকে পৃথিবীর সবশেষ 'শ্যাংরি-লা' (কাল্পনিক পৌরানিক ভূমি) হিসাবে বিবেচনা হয়। ভুটানের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম এই শহরটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, কিছুটা আধুনিক জীবনধারা এবং রঙিন ঐতিহ্যের প্রাণবন্ত মিশ্রণের জন্য বিখ্যাত।

বিখ্যাত 'টাইগার্স নেস্ট' বা তাক্তসাং মনেস্ট্রিও (মঠ) পারোতেই অবস্থিত। এই জায়গাটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৯০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত। নামের মধ্যে টাইগার থাকলেও বাস্তবে স্থানটির সঙ্গে বাঘের কোনো সম্পর্ক নেই। এই উপত্যকাটি সোপান চাষ ( ভূসংস্থানিক সমতল আকৃতির স্থানে চাষ) ও লাল চাল চাষের জন্যও বিখ্যাত।

যাওয়ার সেরা সময়: সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর

দর্শনীয় স্থান: তাক্তসাং লাখাং (টাইগার্স নেস্ট), রিনপুং জং, কিয়েচু লাখাং, জাংসাব্রু লাখাং, চেলেলা পাস ইত্যাদি।

আবহাওয়া: জুন-আগস্ট পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল, ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত শীতকাল আর সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বর্ষাকাল।

থিম্পু

ভুটানে ঘুরতে গেলে প্রথমেই রাজধানী শহরটি ঘুরে দেখতে পারেন। থিম্পুকে আগে 'থিম্বু' নামে ডাকা হতো। রাইদাক নদীর তীরের শহরটি হিমালয় পর্বতমালার একটি উঁচু উপত্যকায় অবস্থিত। নির্জনতা আর পাহাড়ের মনোরোম ও শুশোভিত দৃশ্য মন কেড়ে নিতে সময় নেবে না।

থিম্পু। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী হলেও ভুটানের ঐতিহ্য থেকে বিচ্যুত হয়নি শহরটি। ভুটানকে বলা হয় সুখের রাজ্য, আর থিম্পু হচ্ছে এ রাজ্যের বাণিজ্যিক কেন্দ্র। ভুটানের রাজ পরিবারের বসবাসও এই শহরেই। পাশাপাশি পর্যটকদের থাকার জন্য আছে বিলাসবহুল রিসোর্ট ও হোটেলও।

যাওয়ার সেরা সময়: মার্চ-মে মাস

দর্শনীয় স্থান: বুদ্ধা পয়েন্ট, মেমোরিয়াল কর্টেন, সেনেটারি ফার্মার্স মার্কেট, ভুটানের জাতীয় জাদুঘর, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ট্র্যাডিশনাল মেডিসিন, লোক সংস্কৃতি জাদুঘর ইত্যাদি।

আবহাওয়া: সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত গ্রীষ্ম, নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত শীত, আর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষা।

পুনাখা

এক সময় পুনাখা ছিল ভুটানের রাজধানী। বছরব্যাপী পর্যটনের জন্য ভুটানের অন্যতম সেরা জায়গা হচ্ছে পুনাখা উপত্যকা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ২০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত এই উপত্যকাটি ভুটানের অন্যতম সেরা সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থান।

পুনাখা। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী থিম্পু থেকে মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে এখানে পৌঁছানো যায়। অবশ্য দেশটির যেকোনো প্রান্ত থেকেই পুনাখায় যাওয়ার সহজ যাতায়াত ব্যবস্থা আছে। মনোরম আবহাওয়া, অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্থানীয়দের উষ্ণ আতিথেয়তা ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এটিকে অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে। 

যাওয়ার সেরা সময়: সারা বছর

দর্শনীয় স্থান: পুনাখা জং, চিমি লাখাং, জিগমে দর্জি জাতীয় উদ্যান, রিশতা গ্রাম

আবহাওয়া: জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রীষ্ম, অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত শীত, আর মে থেকে জুন পর্যন্ত বর্ষা।

ত্রোংসা

পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত ত্রোংসা এর প্রাকৃতিক নান্দনিকতার জন্য বিখ্যাত। এখান থেকে যেহেতু ভুটানকে আরও ভালোভাবে উপভোগ করা যায়, তাই এটি 'দ্য ব্যালকনি অব ভুটান' বা ভুটানের বারান্দা নামে পরিচিত। ত্রোংসার সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্যবাহী সাদা ভবন এবং রঙিন গাছপালা শরটিকে যেন আরও রাঙিয়ে তুলেছে।

ত্রোংসা। ছবি: সংগৃহীত

পর্যটকরা মূলত আশেপাশের উপত্যকার দৃশ্য উপভোগ করতে এখানে আসেন। শহরটির অনেক আকর্ষণের মধ্যে ত্রোংসা জং অন্যতম। এই জং আনুমানিক ১৬৪৮ সালে নির্মাণ করা হয়েছে।

যাওয়ার সেরা সময়: সারা বছর

দর্শনীয় স্থান: ত্রোংসা জং, টা জং, ত্রোংসা টাওয়ার, থ্রুয়েপাং প্যালেস

আবহাওয়া: এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল। এপ্রিল থেকে শীত পড়া শুরু হয়, যা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। আর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষা মৌসুম।

বুমথাং ভ্যালি

বুমথাংকে বলা হয় ভুটানের সুইজারল্যান্ড। সুইস আল্পসের নৈসর্গিক দৃশ্য এখানে দেখা না গেলেও সুইস চিজের দেখা মিলবে এখানে।

দেশের মধ্য-পূর্বাংশে অবস্থিত বুমথাং সৌন্দর্য এবং প্রাকৃতিক বিস্ময়ের দিক থেকে সহজেই ভুটানের যে কোনো দর্শনীয় স্থানকে অতিক্রম করতে পারে। জাকার ভ্যালির দুর্গম পথও রোমাঞ্চপ্রেমী পর্যটকদের জন্য আদর্শ স্থান। এই উপত্যকার সবকিছুই আকর্ষণীয়।

বুমথাং ভ্যালি। ছবি: সংগৃহীত

যাওয়ার সেরা সময়: বসন্তকাল (মার্চ-মে), শীতকাল (ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি)

দর্শনীয় স্থান: জাকার জং, ওয়াংডিচলিং প্যালেস, জাম্বি লাখাং, কুর্জে লাখাং, টামশিং গোম্পা, চাকার লাখাং

আবহাওয়া: গ্রীষ্ম (জুন-আগস্ট), শীত (ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি), বর্ষা (সেপ্টেম্বর-নভেম্বর)

ফোবজিকা ভ্যালি

ভুটানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম ফোবজিকা উপত্যকা যেন প্রতিটি দর্শনার্থীর চোখের জন্য একটি ট্রিট! এই উপত্যকাটি কালো গলার সারসের উন্মুক্ত চারণভূমি।

ফোবজিকা ভ্যালি। ছবি: সংগৃহীত

ভুটানের অন্যান্য অংশের চেয়ে এই জায়গাটি কিছুটা ভিন্ন। হৃদয়স্পর্শী সংস্কৃতি, সমৃদ্ধ প্রাণীজ জীববৈচিত্র্যে সজ্জিত এই উপত্যকাটি সহজেই যে কারও দৃষ্টি কাড়বে।

দূর থেকে দেখতে উপত্যকাটি একটি বাটির মতো লাগে। এখানকার আরেকটি অনন্য সৌন্দর্য হচ্ছে কৃষ্ণাঙ্গ পাহাড়।

যাওয়ার সেরা সময়: মে, জুলাই ও এপ্রিল

দর্শনীয় স্থান: গ্যাংটে গোয়েম্বা, সারস তথ্যূকেন্দ্র, ডামচেন লাখাং, শ্রেদা, খুয়াং লাখাং, কুম্ভু লাখাং

আবহাওয়া: গ্রীষ্ম (জুন-জুলাই), শীত (ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি)

 

Comments

The Daily Star  | English

Jatiyo Party's office set on fire in Khulna

Protesters vandalised the Jatiyo Party office in Khulna's Dakbangla area last evening

1h ago