ইসরায়েলের সর্বশেষ প্রস্তাব ‘ইতিবাচক’, আজ চূড়ান্ত জবাব দেবে হামাস

দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইসরায়েল সর্বশেষ প্রস্তাবে জিম্মিদের মুক্তির পর গাজায় ‘টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা’ নিয়ে আলোচনার আগ্রহের কথা জানিয়েছে।
দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরে তাঁবু খাটিয়ে বসবাস করছেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। ছবি: রয়টার্স
দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরে তাঁবু খাটিয়ে বসবাস করছেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। ছবি: রয়টার্স

আজ মিশরে হামাসের একটি প্রতিনিধি দল এসে পৌঁছাবে। ইসরায়েলের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় প্রস্তাবের জবাব দেবে এই প্রতিনিধিদল। এক ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এবারের প্রস্তাবে প্রথম বারের মতো ইসরায়েল স্থায়ীভাবে গাজায় 'যুদ্ধের অবসান' নিয়ে আলোচনা করতে রাজি হয়েছে।

আজ সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে এএফপি।

নভেম্বরে সর্বশেষ যুদ্ধবিরতির পর থেকেই মিশর, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারী হিসেবে হামাস-ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির নতুন চুক্তি নিয়ে কাজ করছে। অপরদিকে, ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে।

রোববার ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস জানিয়েছে ইসরায়েলের সর্বশেষ প্রস্তাব নিয়ে তাদের 'বড় কোনো আপত্তি' নেই।

নাম না প্রকাশের শর্তের হামাসের এক জ্যেষ্ঠ নেতা এএফপিকে বলেন, 'ইসরায়েল নতুন কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করলে বলা যায়, সার্বিকভাবে ইতিবাচক পরিবেশ বিরাজ করছে।'

দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইসরায়েল সর্বশেষ প্রস্তাবে জিম্মিদের মুক্তির পর গাজায় 'টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা' নিয়ে আলোচনার আগ্রহের কথা জানিয়েছে।

৭ মাসের যুদ্ধে এবারই প্রথমবারের মতো ইসরায়েলি নেতারা যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনার বিষয়টি যুদ্ধবিরতি চুক্তির খসড়ায় উল্লেখ করেছেন বলা দাবি করেছে অ্যাক্সিওস।

এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের অবস্থান ছিল হামাসকে পুরোপুরি নির্মূল না করা পর্যন্ত যুদ্ধের অবসান নিয়ে কোনো আলোচনা করতে তারা রাজি নয়।

এই আলোচনার সঙ্গে যুক্ত আছেন এমন এক হামাস নেতা এএফপিকে বলেন, সংগঠনটি 'ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে নতুন প্রস্তাবটি যাচাই করছে' এবং তারা 'এমন একটি চুক্তিতে সম্মতি দিতে চান যেখানে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা, বাস্তুচ্যুত মানুষকে তাদের বাসস্থানে নির্বিঘ্নে ফিরতে দেওয়া, বন্দি-জিম্মি বিনিময়ের গ্রহণযোগ্য চুক্তি ও গাজায় হামলা বন্ধের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত আছে।'

যুক্তরাষ্ট্রের এভারগ্রিন স্টেট কলেজে ফিলিস্তিনের পক্ষে তাঁবু খাটিয়ে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থী্রা। ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের এভারগ্রিন স্টেট কলেজে ফিলিস্তিনের পক্ষে তাঁবু খাটিয়ে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থী্রা। ছবি: রয়টার্স

রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এ সময় বাইডেন চলমান আলোচনার সর্বশেষ তথ্যগুলো জেনে নেন।

রোববার এক সম্মেলনে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান জানান, গাজাকে সুরক্ষিত রাখতে ব্যর্থ হয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

শনিবার ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল ক্যাটজ জানান, হামাস যদি সব জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার চুক্তিতে সম্মত হয়, তাহলে ইসরায়েল রাফায় স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা আপাতত বাতিল করা হবে।

চ্যানেল ১২ কে তিনি বলেন, 'চুক্তি হলে এই অভিযান স্থগিত করা হবে।'

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি ভূখণ্ডে অতর্কিত হামলা চালায় হামাস। এতে এক হাজার ১৬০ জন নিহত হন। হামাসের হাতে জিম্মি হন ২৫০ জন।

এই হামলার প্রতিশোধ হিসেবে সেদিনই গাজার বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ও নির্বিচার বিমানহামলা শুরু করে ইসরায়েল। পরবর্তীতে স্থলবাহিনীও এতে যোগ দেয়। গত ৭ মাসে ফিলিস্তিনি নিহতের সংখ্যা অন্তত ৩৪ হাজার ৪৫৪ তে দাঁড়িয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

Comments

The Daily Star  | English

Dhaka footpaths, a money-spinner for extortionists

On the footpath next to the General Post Office in the capital, Sohel Howlader sells children’s clothes from a small table.

4h ago