চ্যাটজিপিটিকে নকল করেছে ডিপসিক, অভিযোগ ওপেনএআই ও হোয়াইট হাউসের
চ্যাটজিপিটির কাজ ব্যবহার করে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) টুল উন্নত করছে বলে অভিযোগ করেছে ওপেনএআই।
চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ে বড় বিনিয়োগ রয়েছে মাইক্রোসফটের। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, ওপেনএআইয়ের ডেটা চীনা এআই ডিপসিক অনুমোদনহীনভাবে ব্যবহার করেছে কি না, তা তদন্ত করছে মাইক্রোসফট।
এই সপ্তাহে ডিপসিকের উত্থানের পর এআই যুদ্ধে ওপেনএআইয়ের মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
ডিপসিকের আর১ ও ভি৩—দুটি মডেলই চ্যাটজিপিটি, জেমিনাইয়ের মতো পশ্চিমা মডেলগুলোর সমান, কিছু ক্ষেত্রে আরও ভালো কার্যক্ষমতা প্রদর্শন করছে। এই দুটি মডেলের নির্মাণ ব্যয়ও মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় অনেক কম।
হোয়াইট হাউসের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত এআই ও ক্রিপ্টো বিষয়ক কর্মকর্তা ডেভিড স্যাকসও ওপেনএআইয়ের উদ্বেগের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন।
তিনি ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডিপসিকের বিরুদ্ধে ওপেনএআইয়ের মডেলগুলো অবৈধভাবে ব্যবহার করে নিজেদের অ্যালগরিদম সাজানোর অভিযোগ এনেছেন।
'ওপেনএআইয়ের মডেলগুলো থেকে যে ডিপসিক জ্ঞান নিষ্কাশন করেছে, তার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে,' বলেন স্যাকস।
তিনি আরও বলেন, 'আগামী মাসগুলোতে আমাদের শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানগুলোকে এরকম জ্ঞান নিষ্কাশন রোধে ব্যবস্থা নিতে দেখা যাবে। এটি (ডিপসিকের মতো) নকল মডেলগুলোর উন্নয়ন স্তিমিত করে দিতে পারবে।'
এদিকে ওপেনএআই একটি বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, 'চীন ও অন্যান্য দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত মার্কিন এআই কোম্পানিগুলোর মডেল থেকে জ্ঞান নিষ্কাশন করার চেষ্টা করছে।'
এই 'জ্ঞান নিষ্কাশন' রোধে মার্কিন সরকারের সাহায্যও প্রার্থনা করেছে ওপেনএআই।
বিবিসি জানায়, প্রযুক্তি খাতে মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ নতুন না। এর আগে, মার্কিন এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অনেকবার এমন অভিযোগ উঠেছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট জানিয়েছেন, ডিপসিক যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত করছে মার্কিন কর্মকর্তারা।
মার্কিন নৌবাহিনী তাদের কর্মীদের ডিপসিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। 'নিরাপত্তা ও নৈতিক উদ্বেগের কারণে' এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনবিসি।
Comments