রাষ্ট্রপতির সংলাপে যোগ দেবে না বিএনপি

আমন্ত্রণ পেলেও নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সংলাপে যোগ দেবে না বিএনপি।

দলের নেতারা বলছেন, আলোচনায় কোনো ফল হবে না বলে তারা বিশ্বাস করেন বলেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আমন্ত্রণ পাওয়ার পরও কেন সংলাপে অংশ নেবে না এবং দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি পাঠাতে পারে দলটি। বিএনপি আগামী সাধারণ নির্বাচন তদারকি করতে নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের উদ্যোগ নিতে রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করবে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, 'আমরা সংলাপে যোগ দেব না। যোগ দিয়ে কোনো লাভ হবে না। এর আগেও আমরা ২ বার সংলাপে অংশ নিয়েছি কিন্তু সেগুলো ছিল অর্থহীন।'

গত সোমবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সংলাপে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

বিএনপি নেতারা বলছেন, রাষ্ট্রপতি সংলাপ করতে পারেন কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা ছাড়া তিনি কিছু করতে পারেন না। সে কারণেই সংলাপে অংশ নেওয়ার অর্থ 'পরবর্তী ইসি গঠনের প্রক্রিয়াকে বৈধতা দেওয়া' ছাড়া আর কিছুই না।

মির্জা ফখরুল বলেন, 'পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই নির্বাচনকালীন সরকার গঠনে সংলাপ হওয়া উচিত।'

রাষ্ট্রপতি গত ২০ ডিসেম্বর নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন। সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিই প্রথম দিন সংলাপে যোগ দেয়।

এ পর্যন্ত ১৪টি দলকে সংলাপে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত মোট ৩৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বর্তমান সংসদে মাত্র ৯টি দলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।

আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ইসির মেয়াদ শেষ হবে। সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন ইসি গঠন করতে হবে।

সংলাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, 'পথে-ঘাটে যে কোনো জায়গায় যে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই এর উত্তর পাবেন। এই সংলাপ হচ্ছে জনগণের ভোটের অধিকার ছিনিয়ে নিতে সরকারের প্রকল্পের একটা মহড়া। সরকারের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে পূর্ণ সচেতন কোনো গণতান্ত্রিক দল এই সংলাপে যোগ দিতে পারে না।'

২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি সার্চ কমিটি গঠনের আগে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ৩১টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করেছিলেন।

কমিটি ৩১টি রাজনৈতিক দলকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার পদে ৫টি করে নাম সুপারিশ করতে বলে। এরপর প্যানেল রাজনৈতিক দলের প্রস্তাবিত ১২৮টি নাম থেকে ২০টি বাছাই করে। সেখান থেকে কে এম নুরুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অপর ৪ জনকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।

২০১২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ২৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেন। তাদের মধ্যে ৫টি দল সার্চ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করে এবং ৪টি দল এই ধরনের নিয়োগের জন্য আইন প্রণয়নের পরামর্শ দেয়।

তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার পদে নাম সুপারিশের জন্য ৪ সদস্যের সার্চ কমিটির প্রধান হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতিকে নিয়োগ দেন।

সেই কমিটি ১০ জনকে বাছাই করে। পরে রাষ্ট্রপতি ৫ জনকে বাছাই করে ২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন গঠন করেন।

Comments

The Daily Star  | English

Regulating online hate speech 'not censorship': UN rights chief

Instead, Meta platforms including Facebook and Instagram, 'would use community notes similar to X (formerly Twitter), starting in the US'

1h ago