চট্টগ্রাম নিউমার্কেট এলাকায় সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ অন্তত ২০ জন চমেক হাসপাতালে ভর্তি

নন্দনকাননে এক দফা দাবিতে আন্দোলনকালীদের সঙ্গে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ছবি: রাজিব রায়হান/স্টার

চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যকার সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে অন্তত ২০ জন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

আজ রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিউমার্কেট এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আনা প্রায় ২০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একই সময়ে কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করায় সেখানে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর সেখানে সংঘর্ষের শুরু হয়।

আজ সকাল ১১টায় নিউমার্কেট এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় আন্দোলনকারী ও আওয়ামী লীগ।

উভয়পক্ষই নিউমার্কেটে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে রাইফেলস ক্লাব এলাকায় এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা নন্দনকাননের দিক থেকে মিছিল নিয়ে নিউমার্কেটের দিকে আসতে শুরু করেন। এর আগেই আন্দোলনকারীরা নিউমার্কেট এলাকায় অবস্থান নেয়।

উভয়পক্ষ অবস্থান নেওয়ায় সেখানে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

এর আগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, যেকোনো ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে পেশাগতভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কর্মসূচির আন্দোলনকারীরা গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর বাসভবন, আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চুর কার্যালয় ও চট্টগ্রাম সিটি মেয়রের বাসভবনে হামলার পর বন্দরনগরীতে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বহদ্দারহাট এলাকায় মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর বাসভবনে হামলা চালালে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মোট চারজন আহত হন এবং তাদের মধ্যে পশ্চিম বাকালিয়া ওয়ার্ডের রসুলবাগ এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম শহীদ একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এ ঘটনার পর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ ও বিএনপি চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেনসহ চার বিএনপি নেতার বাসায় ভাঙচুর চালায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার মন্ত্রিসভার পদত্যাগের একদফা দাবি ঘোষণা করে আজ থেকে সারা দেশে অসহযোগ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠনটির সমন্বয়ক মো. নাহিদ ইসলাম গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই ঘোষণা দেন।

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আজ থেকেই রাজপথে অবস্থান নেওয়া এবং পুরো আগস্ট জুড়ে রাজপথে অবস্থান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

 

Comments

The Daily Star  | English
KUET attack

Protests spill over to other campuses after Kuet attack

Anti-Discrimination Student Movement leaders issue ultimatum at DU; protests held at CU, JU, RU, and JnU

8h ago